Hot Posts

6/recent/ticker-posts

রোযার উপকারিতা ও যৌক্তিকতা



বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম।
মহান আল্লাহ বলেন-

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا كُتِبَ عَلَيْكُمُ الصِّيَامُ كَمَا كُتِبَ عَلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكُمْ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ

বাংলানুবাদ: হে বিশ্বাসিগণ! তোমাদের জন্য সিয়ামের (রোযার) বিধান দেওয়া হল, যেমন বিধান তোমাদের পূর্ববর্তীগণকে দেওয়া হয়েছিল, যাতে তোমরা সংযমশীল(পরহেযগার) হতে পার। [সূরা ২ বাকারা:১৮৩]

এই আয়াত থেকে দুটি বিষয় বুঝা যায় যে,
১. পূর্ববর্তী সকল জাতির উপর রোযা ফরয ছিল। অবশ্য ইসলাম, খ্রিষ্টান ও ইয়াহুদী ধর্মের পূর্বের ধর্মাবলম্বী মানুষরা কিভাবে কোন্ পদ্ধতিতে রোযা পালন করত, তা নির্দিষ্টরূপে জানা যায় না। তবে ইয়াহুদ ও খ্রিষ্টানরা নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট জিনিস থেকে বিরত থেকে রোযা পালন করত। (বর্তমানকালেও আমরা প্রচলিত প্রতিটি ধর্মেই ভিন্ন-নামে রোযা রাখার পদ্ধতি রয়েছে। 

২. সিয়াম বা রোযা মানুষকে পরহেযগার বা মুত্তাকী বানায়।

সিয়ামের উপকারিতা: বান্দাহর প্রতি ফরযকৃত এই রোযার মাঝে রয়েছে অভাবনীয় যৌক্তিকতা ও অচিন্তনীয় উপকারিতা। নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো-

১. ফরয ইবাদত আদায় ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জন

২. অন্তরে আল্লাহ-ভীতি জন্মায়

৩. সংযমের শিক্ষা দেয়।

৪. রোযা আত্মাকে তরবিয়ত দান করে, চরিত্রকে সভ্য ও আদর্শভিত্তিক করে গড়ে তোলে এবং রোযাদারের আচরণে উৎকৃষ্টতার স্থায়িত্ব আনয়ন করে। 

৫. রোযাদারের জীবনে তার আখলাক-চরিত্র স্থায়িত্ব, স্থিতিশীলতা, বর্ধনশীলতা ও শ্রীবৃদ্ধিশীলতার ছাপ রাখে

৬. সৎগুণাবলী অর্জন। রোযা মুমিনকে হীনতা ও নীচতা হতে রক্ষা করে, প্রত্যেক নোংরামীর বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে। সুতরাং সে না চুগলী করে, না গীবত। না মিথ্যা বলে, না অশ্লীল। না ফিতনা সৃষ্টি করে, না ফাসাদ। না অহেতুক কথা বলে।

৭. রোযা মন ও প্রবৃত্তিকে দমন ও নিয়ন্ত্রণ করার অনুশীলন দেয়। জিতেন্দ্রিয় ও সংযমী হতে উদ্বুদ্ধ করে। 

৮. রোযা রোযাদারকে কুঅভ্যাসের দাসত্ব থেকে মুক্তিদান করে। মদ্যপায়ী বা ধূমপায়ীরা সাময়িকভাবে হলেও তাদের পরিপাকতন্ত্র ও ফুসফুসকে রক্ষা করতে পারে এবং এই প্রক্রিয়ায় ভবিষ্যতে একেবারেই ছাড়তে পারে। 

৯. দৈহিক সুস্থ্যতা ও রোগ নিরাময়কারী। রোযায় রয়েছে শরীরের ওজন বৃদ্ধি, হ্যাপাটাইটিস, জন্ডিস, প্লীহা, যকৃৎ, বদহজম, প্রভৃতি রোগের চিকিৎসা। 

আধুনিক ডাক্তারের অনন্য আবিষ্কার অটোফেজি (Autophagy), এর মানে হলো- শরীরের কোষ যখন বাহির থেকে কোনো খাবার না পায় তখন নিজেই তার অসুস্থ কোষগুলো খেতে শুরু করে এটাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় অটোফেজি বলে।

মানুষের তন্ত্র যখন খালি থাকে তখন পরিপাকতন্ত্রের কোষগুলো বেকার বসে না থেকে তার ভিতরের আবর্জনা ও ময়লা পরিষ্কার করতে শুরু করে। ১৯৬২ সালে এই বিষয়টি প্রথম পর্যবেক্ষণ করেন Keith R. Porter এবং তার ছাত্র Thomas Ashford. পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে ব্যাপকভাবে এই বিষয়টি নিয়ে গবেষণা চলে জাপানের ওশিনরি ওসুমি ( Yoshinori Ohsumi ) আরো অনেকে এবং ২০১৬ সালে এই গবেষণার জন্যই তাকে নোবেল প্রাইজ দেয়া হয়। 

এটিও নাস্কিতার বিরুদ্ধে সৃষ্টিকর্তার যথার্থতার একটি বড় প্রমাণ। কেননা সৃষ্টিকর্তা তার প্রতিটি বিধানের পিছনে কোনো না কোনো কার্যকারণ রেখেছেন এবং সৃষ্টি শুরু থেকে প্রতিটি জাতির উপরই রোযা ফরয করেছেন।

আমরা কত সৌভাগ্যবান যে, অন্যান্য জাতিরা তাদের ধর্মীয় বিধান পরিবর্তন-পরিবর্ধন-কর্তন করলেও আমরা এটাকে অক্ষুন্নভাবে পালন করতে পারি। এখন শুধু আমাদের মানুসিক শক্তিটা থাকা দরকার।

১০. রোযা রোযাদারের মনে পরকালের প্রতি আগ্রহ ও উৎকণ্ঠা বৃদ্ধি করে। এটা আল্লাহর প্রতি সুদৃঢ় ঈমান রাখার সবিশেষ প্রশিক্ষণ।

১১. রোযা হল গোনাহের কাফ্ফারা।

১২. রোযা রোযাদারের মনে ধৈর্য ও সহনশীলতা সৃষ্টি করে।

১৩. রোযা হল ঢালস্বরূপ; দোযখ থেকে রক্ষার ঢালস্বরূপ।

১৪. রোযাদার ব্যক্তির দুআ রোযা রাখা অবস্থায় কবুল হয়ে থাকে। প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘‘তিন প্রকার দুআ আল্লাহর নিকট কবুল হয়ে থাকে; রোযাদারের দুআ, অত্যাচারিতের দুআ এবং মুসাফিরের দুআ।’’ (বাইহাকী শুআবুল ঈমান, ইবনে আসাকের, সিলসিলাহ সহীহাহ, আলবানী: ১৭৯৭)

১৫. রোযা মানুষের মাঝে শয়তানের প্রবেশ ও প্রবাহ-পথ রুদ্ধ করে। নেকীকে বৃদ্ধি করে .....

আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘আল্লাহ আয্যা অজাল্ল বলেন, ‘আদম সন্তানের প্রত্যেক আমল তার নিজের জন্য; তবে রোযা নয়, যেহেতু তা আমারই জন্য এবং আমি নিজেই তার প্রতিদান দেব।’ রোযা ঢাল স্বরূপ। সুতরাং তোমাদের কারো রোযার দিন হলে সে যেন অশ্লীল না বকে ও ঝগড়া-হৈচৈ না করে; পরন্তু যদি তাকে কেউ গালাগালি করে অথবা তার সাথে লড়তে চায়, তবে সে যেন বলে, ‘আমি রোযা রেখেছি, আমার রোযা আছে।’ সেই সত্তার শপথ যাঁর হাতে মুহাম্মদের প্রাণ আছে! নিশ্চয়ই রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট কস্ত্তরীর সুবাস অপেক্ষা অধিকতর সুগন্ধময়। রোযাদারের জন্য রয়েছে দু’টি খুশী, যা সে লাভ করে; যখন সে ইফতার করে তখন ইফতারী নিয়ে খুশী হয়। আর যখন সে তার প্রতিপালকের সাথে সাক্ষাৎ করবে তখন তার রোযা নিয়ে খুশী হবে।[বুখারী:১৯০৪, মুসলিম: ১১৫১ ]

আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘‘--- আর যে ব্যক্তি রোযা রাখায় অভ্যাসী হবে, তাকে (কিয়ামতের দিন) ‘রাইয়ান’ দুয়ার হতে (জান্নাতের দিকে) আহবান করা হবে। ---’’[বুখারী ১৮৯৭, মুসলিম ১০২৭]



Post a Comment

2 Comments

আসসালামু আলাইকুম
-----------------------------------
আপনাদের মতামত আমাদের কাছে প্রকাশ করতে পারেন। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করবো আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।