Hot Posts

6/recent/ticker-posts

খ্রিস্টান বাইবেল আল্লাহর প্রত্যাদেশপ্রাপ্তির কিতাব নয়।

ইহুদী ধর্মাবলম্বীরা আসমানী কিতাব "তাওরাত" ও "যাবুর" এর অনুসারী। বর্তমানে "তোরাহ" বলতে তাওরাত" কে এবং "যাবুর'কে "যামস" হিসেবে জানি। যে "তাওরাত" হযরত মুসা (আঃ) এর ওপর নাযিল হয়েছে এবং "যাবুর" হযরত দাউদ (আঃ) এর উপর। কিন্তু বিস্ময়কর বিষয় এই যে আসল আসমানী কিতাব "তাওরাত" ও "যাবুর" এর যে সকল আল্লাহ কর্তৃক বাণী লিপিবদ্ধ ছিলো তা বর্তমান "তোরাহ" এবং "যামস" এ নেই। সম্পূর্ণ বিকৃতি হয়ে ইহুদিদের তৈরি করা মতবাদের ওপর ভিত্তি করে এই কিতাবগুলো তৈরী করা হয়েছে।

তেমনি বর্তমান সভ্য জগতের সাল গণনার প্রথম শতকে এবং আরোও অনেক আগেও "বাইবেল" শব্দটি কারো জানা ছিলো না। অর্থাৎ কোনো পুস্তককে নাম "বাইবেল" ছিলো না। অবশ্য চতুর্থ শহকে কনস্টান্টিপোলের (বর্তমানে যে স্থান ইস্তাম্বুল) একজন গোষ্টপতি 'জন ক্রাইসোটর ইহুদের দ্বারা সংগৃহীত পুঁতিগুলোকে "বিবালিয়া" অর্থাৎ "বুকস" (গ্রন্থমালা) বলে উল্লেখ করেছেন।

বাইবেলে ২টি অংশ সংযোজন করা হয়েছে...

"পুরাতন নিয়ম" The Old Testament) এবং "নতুন নিয়ম" (The New Testament)।

★" পুরাতন নিয়ম" (The Old Testament) :- এতে রয়েছে যীশুর [হযরত ঈসা (আঃ)] অবর্তমানে বিভিন্ন লেখক কর্তৃক যীশুর জীবনী, উপদেশাবলী এবং তৎপ্রতি প্রত্যাদিষ্ট ঐশীবাণীসমূহের অংশবিশেষ প্রসঙ্গক্রমে বিক্ষিপ্ত বিচ্ছিন্নভাবে।
এখন পর্যন্ত অনেক জ্ঞানীব্যক্তি বিশুদ্ধ খ্রিস্টান হয়েও বাইবেলের উক্তিগুলোকে ঠিক আপ্তবাক্য বলে মেনে না নিয়ে নিজেদের বিচার বুদ্ধির আলোকে ক্রমাগত তত্ত্ব অনুসন্ধান করতে করতে সুসমাচার সম্বন্ধে অনেক নতুন নতুন তত্ত্ব আবিষ্কার করেছেন। যা আপ্তবাক্যের চেয়ে নির্ভরযোগ্য।
ইহুদিদের পবিত্র ধর্মগ্রন্থ হিব্রু ভাষার বাইবেল। উল্লেখ্য, হিব্রু বাইবেল খ্রিস্টানদের বাইবেলের অন্তর্ভুক্ত "Old Testament) " বা "পুরাতন নিয়ম" থেকে (New Testament) বা "নতুন নিয়ম" আলাদা। খ্রিস্টানরা এই Old Testament -এ বেশ কয়েকটি অধ্যায় সংযোজন করেছেস যা হিব্রু বাইবেলের অনুপস্তিত। এই সংযোজন কিন্তু বাস্তবে ইহুদি মতবাদে তেমন কোনো পরিবর্তন ঘটিয়েছে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। কেননা, ইহুদিরা নিজস্ব হিব্রু বাইবেল যেমনটি ছিলো তেমনইভাবে তাকে গ্রহণ করা হলেও এর সঙ্গে খ্রিস্টানরা আরও কিছু নতুন অধ্যায় সংযোজন করেছেন। যদিও খ্রিস্টানরা যীশুর ধর্মপ্রচারের সাথে পরিচিত সবগুলো রচনাকে ধর্মগ্রন্থ হিসেবে গ্রহণ করেননি। যীশুর জীবনী ও শিক্ষা-সংক্রান্ত পুস্তকের সংখ্যা কম ছিল না, তবুও নিজেদের ধর্মগ্রন্থ হিসেবে গির্জার পুরোহিত অধিকারীরা এসব থেকে যাচাই বাছাই ও কাট-ছাঁট করে শুধু কয়েকটি রচনাকে ধর্মগ্রন্থের মর্যাদা দিয়েছেন। এভাবে, কিছুসংখ্যক রচনা বাইবেলের "New Testament " এ স্থান পেয়েছে। এরমধ্যে প্রামাণ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বলে পরিচিত চারটি গসপেল বা সুসমাচার।
যীশুখ্রিস্টের ৬ শত বছর পর কোরআনের বাণীসমূহ অবর্তীণ হয়, তাওরাত ও গসপেলের (ইঞ্জিল) বহু তথ্য ও পরিসংখ্যানের উল্লেখ ছাঁড়াও কোরআনঃ ৪ঃ ১৩৬ এর মাধ্যমে ইতিপূর্বেকার সবগুলো আসমানী কিতাবের বিশ্বাস স্থাপনের জন্য মুসলমানদের প্রতি নির্দেশ রয়েছে। তাছাঁড়াও, অন্যান্য পয়গম্বর যেমন:- যীশু বা হযরত ঈসা, হযরত মুসা ও তার পরবর্তী নবীদের এবং তাদের ওপর অবর্তীণ হওয়া আল্লাহর বাণী সম্পর্কে সবিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। বিশেষ এক মর্যাদা দেয়া হয়েছে যীশু বা হযরত ঈসা (আঃ) কে। বাইবেলের মতো কোরআনে যীশুমাতা মেরী বা হযরত মরিয়ম বিশেষ মর্যাদার আসনে আসীন। এমনকি কোরআনের ১৯নং সূরার নামকরণ করা হয়েছে যীশুমাতার নামানুসারে "মরিয়ম"।
ধর্মগ্রন্থের ব্যাপারে খ্রিস্টধর্ম ও ইসলামের মধ্যে আর একটি মৌলিক পার্থক্য বিদ্যমান:- খ্রিস্টানদের এমন কোনো ধর্মগ্রন্ত নেই যার বাণীসমূহ সরাসরি ওহী বা প্রত্যাদেশের মাধ্যমে প্রাপ্ত এবং যে গ্রন্থে বাণীসমূহ হুবহু লিপিবদ্ধ। পক্ষান্তরে, ইসলামের কোরআন এই চরিত্রের ধর্মগ্রন্থ, এই গ্রন্থ সরাসরিভাবে প্রত্যাদেশের মাধ্যমে প্রাপ্ত।
কোরআন প্রধান ফিরিশতা জিব্রাঈলের মাধ্যমে মোহাম্মদ (দঃ) কর্তৃক প্রাপ্ত ওহী তথা আল্লাহর বাণী। প্রত্যাদেশপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে ওহীর বাণীসমূহ লিখে রাখা হত; বিশ্বাসীরা তা কন্ঠস্বর করে ফেলতেন এবং নামাজে সেইসব বাণী বা আয়াত তেলাওয়াত করা যা এখনো হয়। বিশেষত, প্রাপ্ত বাণীসমূহ রমজান মাসে অবশ্যই সম্পূর্ণভাবে তেলাওয়াতের ব্যবস্থা থাকতো। এখনো সেই ধারা। চালু রয়েছে। মোহাম্মদ (দঃ) নিজেই প্রাপ্ত বাণীসমূহ বিভিন্ন সূরায় ভাগ করে গেছেন। তার মৃত্যুর পরে এসব সূরা সংগ্রহ করে তা গ্রন্থকারে প্রকাশ করা হয়েছে।
এখন যে কোরআন, এই হলো সেই গ্রন্থ। অপরপক্ষে, খ্রিস্টানদের ধর্মগ্রন্থ সম্পূর্ণ ভিন্ন পদ্ধতিতে সংকলিত হয়েছে। তাদের বাণীসমূহ সরাসরি প্রত্যাদেশপ্রাপ্ত নয়; বরং তা বহুজনের বর্ণিত পরোক্ষ বিবরণী।
মূলত, যীশুর জীবন বৃত্তান্ত কোনো প্রত্যক্ষদর্শীর চাক্ষুষ বিবরণী থেকে পাওয়া যায় না ।  যদিও অনেক খ্রিস্টানই মনে করেন, বাইবেলে বর্ণিত ঘটনাবলী প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ। যাহোক, যে গ্রন্থের বাণী সম্পূর্ণভাবে নির্ভুল নয়, তাকে ধর্মগ্রন্থ হিসেবে স্বীকার করে নেয়া যায় না।
কোরআন সম্পর্কে পরীক্ষা নিরীক্ষা পরিচালনার পরেও এ মনোভাব পরিবর্তনের কোনো প্রয়োজন দেখা যাচ্ছে না। এই গ্রন্থপাঠে দেখা যাবে বৈজ্ঞানিক কৌতুহলেরর বহু বিষয় কোরআনে উল্লেখিত রয়েছে এবং কোরআনের বাণীসমূহ বাইবেলের বাণীর তুলনাই নির্ভুল। বাইবেলে বিজ্ঞান সংক্রান্ত বক্তব্য অল্প কিছুসংখ্যক; কিন্তু সেগুলো বৈজ্ঞানিক সত্যের বিরোধী।
পক্ষান্তরে, বিজ্ঞান সংক্রান্ত বক্তব্য কোরআনে প্রচুর এবং তার সবগুলোই সত্যনিষ্ঠ।  বস্তুত, কোরআনে বিজ্ঞান সংক্রান্ত একটি বক্তব্যও খুঁজে পাওয়া যাবে না, যেটি বৈজ্ঞানিক সত্যের বিরোধী।
সুতরাং, এতে প্রমাণিত হয় যে পবিত্র কোরআন একটি অবিকৃত গ্রন্থ এবং প্রত্যাদেশপ্রাপ্তি ওহী। অর্থাৎ কোরআন ও ইসলাম একমাত্র সঠিক ধর্ম।

★ সংগ্রহীত তথ্য:- ড. মরিস বুকাইলি

Post a Comment

0 Comments