Hot Posts

6/recent/ticker-posts

ধর্মগ্রন্থ মানবজাতি ও বিজ্ঞান

 

বাছিত বিন হাফিজ
লেখক:- বাছিত বিন হাফিজ 


ধর্ম স্রষ্টা কর্তৃক প্রেরিত। তা অস্বীকার করার কোন যুক্তি নেই। আর তা যাচাই করতে হবে স্রষ্টা কর্তৃক ধর্মগ্রন্থ থেকেই। প্রশ্ন আসতে পারে সেগুলো কোন কোন গ্রন্থ? এর উত্তরও কঠিন নয়। পৃথিবীতে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ আছে। একেক জাতি একেক ধর্মগ্রন্থের অনুসারী। তার মধ্যে প্রধান হল চারটি জাতি। তারা হলেন-হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও মুসলিম জাতি। চার জাতির ধর্মগ্রন্থ আলাদা আলাদা। তাদের ধর্মকর্মও আলাদা। এটাই স্বাভাবিক। অন্যান্য ছোটো খাটো যেসব ধর্ম আছে তা তেমন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নয়। পৃথিবীর এই বিখ্যাত চারটি ধর্মগ্রন্থ আমরা যদি সঠিক ভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা অথবা গবেষণা করি তবে আসল সত্যটি বেরিয়ে আসবে। অর্থাৎ স্রষ্টা কর্তৃক ধর্মগ্রন্থ কোনট হবে তা নিজেরাই প্রতিষ্ঠিত করতে পারি। গোড়ামি নয়, সঠিকভাবে যাচাই। পূর্বপুরুষগণ যেসব ধর্মকর্ম করে গেছেন তা কতটুকু সত্যি বা মিথ্যা তা যাচাই করতে আমাদের অসুবিধা কোথায়? তাঁদের ধর্মকর্ম তো মিথ্যেও হতে পারে আবার সত্যিও হতে পারে। এই সত্যি মিথ্যা যাচাই করার জন্যই ধর্মগ্রন্থগুলো সঠিকভাবে, সরল মনে উপলব্ধি করা দরকার।

যার যার ধর্ম তার তার কাছে বড় হবেই। ধর্মের বিধান নিয়মনীতি সবারই রক্তের সাথে মেশানো। আমরা ধর্মের মৌলিক তথ্যগুলি বুঝতে পারি না বলেই ধর্ম নিয়ে আজ সারা বিশ্বে হানাহানি। অথচ আমরা সবাই মানুষ। সৃষ্টিকর্তা একজনই আছেন। তাঁর কোন বিধানেই হানাহানির উল্লেখ নেই। মানুষ সঠিক হিসেব মিলাতে পারছে না বলেই ভুল পথে অগ্রসর হচ্ছে।

ধর্মগ্রন্থের বাণী বুঝার উপায় ধর্মগ্রন্থেই নিহিত আছে। কোনটি স্রষ্টার বাণী আর কোনটি মানব রচিত বাণী তা অতি সহজেই ধরা যায়। বুঝতে হবে কোন বাণীগুলো মানবজাতির জন্য অকল্যাণকর, আর কোন বাণীগুলো কল্যাণকর। কোন বাণী বিজ্ঞানভিত্তিক আর কোনগুলো অবৈজ্ঞানিক। স্রষ্টার বাণী অকল্যাণকর, অবৈজ্ঞানিক হওয়ার প্রশ্নই উঠে না। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় যে বাণীগুলো কল্যাণকর ও বিজ্ঞানভিত্তিক মনে হবে সেগুলোই স্রষ্টা কর্তৃক। বিপরীতধর্মী সবই মানবকর্তৃক রচিত। যা মানুষের কোন কাজেই আসবে না।

নানা দিকের বিচার বিশ্লেষণে কোন ধর্মটি শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার, কোনটি অনুসরণযোগ্য এবং বিজ্ঞানভিত্তিক সে বিষয়ে একটি যুক্তিসংগত সুস্পষ্ট ধারণা পাঠকদের উপহার দেয়ার জন্যই বাছিত বিন হাফিজের উক্ত 'ধর্মগ্রন্থ মানবজাতি ও বিজ্ঞান' গ্রন্থটি সাজানো হয়নি। অথবা কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার জন্যও বইটি রচনা করা হয়নি। বরং ধর্মকে সুসংহত করার যাবতীয় সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতা ও হিংসা বিদ্বেষভাব থেকে মুক্ত থাকার জন্যই লেখক বইটি রচনা করেছেন। আর এই গ্রন্থের পরীক্ষা নিরীক্ষার বিষয়াদি হচ্ছে-মানবজীবনের অতি গুরুত্বপূর্ণ চিন্তা, নির্বাচিত ধর্মগুলোর কোনটির কিরূপ ব্যাখ্যা দিয়েছে তা তুলে ধরা।

লেখক তাঁর "ধর্মগ্রন্থ মানবজাতি ও বিজ্ঞান" গ্রন্থে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থের বাণীর সত্যতা, ব্যর্থতা, বৈজ্ঞানিক, অবৈজ্ঞানিক সকল দিক পরীক্ষা নিরীক্ষা এবং গবেষণা করে সুন্দররূপে তুলে ধরেছেন। আমার মনে হয় তাঁর গ্রন্থটি আস্তিক-নাস্তিক সর্বমহলে সমাদৃত হবে। হিন্দু ধর্মগ্রন্থ বেদ যে একটি ঐশী গ্রন্থ একথা কেউই আর অস্বীকার করার পথ খুঁজে পাবে।  হিন্দু জাতি তাদের মূল ধারায় ফিরে যেতে পারবে। এই পারাটা তাদের জন্য একান্ত জরুরী। শুধু হিন্দু জাতিই নয়, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধ মুসলিম জাতিরাও তাদের সেই আসল তথ্য পেয়ে যাবেন।

মানুষ হিসাবে আমরা সবাই সমান। সৃষ্টিকর্তা একজনই। মানুষ ভিন্ন ভিন্ন নামে তাঁকে ডাকে। কাদের ডাকে তিনি সারা দেন আমরা তা অনুভব করি না। কিন্তু তিনি সারা দেন। মুসলিম জাতি যিনি সৃষ্টি করেছেন, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ও অন্যান্য জাতিকে তিনিই সৃষ্টি করেছেন। কোন নাম নিয়ে, কেমন করে ডাকলে তিনি সাড়া দেবেন তা ধর্মগ্রন্থে উল্লেখ রয়েছে। আমাদের তা খুঁজে নিতে হবে। বাছিত বিন হাফিজ তাঁর গ্রন্থে এ ধরনের কিছু বৈজ্ঞানিক তথ্য তুলে ধরেছেন যা সম্পূর্ণ যৌক্তিক। আমাদের করণীয় হবে এসব তথ্যের সত্যতা যাচাই করা। 

[ বিঃ দ্রষ্টব্য:-  আমরা বাছিত বিন হাফিজের -"ধর্মগ্রন্থ মানবজাতি ও বিজ্ঞান" বইটির সম্পূর্ণ লিখাগুলো Part by Part উক্ত Site- এ প্রকাশ করার চেষ্টা করছি। আমাদের সাথে থাকবেন এবং পরবর্তী শুরুটা আমরা হিন্দু জাতি (Part-01) দিয়ে শুরু করবো। ]

Post a Comment

2 Comments

  1. আমাদের সবার এসব বিষয়ে জানা খুব জরুরী। আমরা বর্তমানে এসব না জানার কারনে অনেক ভুল ভ্রান্তমতের সাথে জরিয়ে পরেছি। অপেক্ষায় আছি Part গুলো পড়ার জন্য।

    ReplyDelete
  2. প্রত্যেকের উচিত নিজ নিজ ধর্মের সত্যতা জানা। পরবর্তী পার্টগুলোর অপেক্ষায় রইলাম এবং আপনার এই Site Follow করেছি।

    ReplyDelete

আসসালামু আলাইকুম
-----------------------------------
আপনাদের মতামত আমাদের কাছে প্রকাশ করতে পারেন। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করবো আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।